🔹 সঠিক উত্তর: D) গুর্বী
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী 'গুরু' শব্দের স্ত্রী লিঙ্গ হলো গুর্বী। সংস্কৃত ভাষায় 'গুরু' পুরুষবাচক শব্দ, যার স্ত্রীবাচক রূপ 'গুর্বী'। ব্যাকরণগত লিঙ্গ অনুসারে, 'গুরু' শব্দের শেষে 'উ' ধ্বনি থাকায় স্ত্রীবাচক রূপ গঠনের সময় সেই 'উ' পরিবর্তিত হয়ে 'ব' হয় এবং সাথে 'ঈ' (ঈ-কার) যোগ হয়: গুরু + ঈ = গুর্বী।
এই একই নিয়মে বাংলায় আরও কিছু পুরুষ-স্ত্রী জোড়া আছে, যেমন: বন্ধু → বান্ধবী, গুরু → গুর্বী, ভিক্ষু → ভিক্ষুণী, সাধু → সাধ্বী। 'গুর্বী' শব্দটি সংস্কৃত 'গুর্বী' (gurvī) থেকে সরাসরি এসেছে, যার অর্থ গুরুপত্নী বা নারী শিক্ষক।
🔹 অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
A) গুরী – এটি একটি আঞ্চলিক বা কথ্য রূপ, যা কখনো কখনো সাহিত্যে ব্যবহৃত হলেও ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ স্ত্রীলিঙ্গ নয়। প্রমিত বাংলায় 'গুরু' এর স্ত্রীলিঙ্গ 'গুরী' নয়, বরং 'গুর্বী'।
B) গুরুমা – 'গুরুমা' একটি সম্বোধনসূচক শব্দ, যা সাধারণত গৃহশিক্ষিকা বা মহিলা শিক্ষককে সম্মান জানাতে ব্যবহৃত হয়। এটি 'গুরু' শব্দের ব্যাকরণগত স্ত্রী লিঙ্গ নয়, বরং একটি পৃথক শব্দগুচ্ছ (গুরু + মা)।
C) গুরুনী – এটি বাংলা ব্যাকরণে স্বীকৃত কোনো শব্দ নয়। 'গুরু' শব্দের শেষে 'নী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ তৈরি করার নিয়ম নেই। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী 'গুর্বী' শব্দটিই নির্ভুল।
🔹 বাংলায় 'উ' শেষযুক্ত পুরুষবাচক শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ
| পুরুষবাচক | স্ত্রীবাচক | নিয়ম |
|---|---|---|
| গুরু | গুর্বী | উ → ব + ঈ |
| বন্ধু | বান্ধবী | উ → ব + ঈ (স্বরবৃদ্ধি) |
| ভিক্ষু | ভিক্ষুণী | উ → উণী |
| সাধু | সাধ্বী | উ → ব + ঈ (স্বরবৃদ্ধি) |
| স্বামী | স্বামিনী | ঈ → ইনী |
🔹 পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- গুরু-এর স্ত্রীলিঙ্গ: গুর্বী
- গঠন নিয়ম: গুরু + ঈ = গুর্বী (উ → ব)
- সংশ্লিষ্ট জোড়া: বন্ধু-বান্ধবী, সাধু-সাধ্বী, ভিক্ষু-ভিক্ষুণী
- অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুরুষ-স্ত্রী জোড়া: রাজা-রানী, কবি-কবিয়াল, বিধু-বিধুয়া
আশা করি এই ব্যাখ্যা থেকে 'গুরু শব্দের স্ত্রী লিঙ্গ' সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। নিয়মিত অনুশীলনের জন্য আমাদের লাইভ এক্সাম পেজ ভিজিট করুন।