🔹 সঠিক উত্তর: B) মার্শাল টিটো
জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (Non-Aligned Movement – NAM) হল স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন কোনো সামরিক জোটে যোগ না দেওয়া এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাধীন কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠা করা।
এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রস্তাবক ছিলেন সাবেক যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি জোসিপ ব্রজ টিটো (মার্শাল টিটো)। তিনি ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুগোস্লাভিয়ার নাৎসি বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা এবং পরবর্তীতে দেশটির কমিউনিস্ট নেতা। টিটো ১৯৪৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে সমাজতন্ত্রের একটি স্বাধীন মডেল প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরে এশিয়া ও আফ্রিকার নেতাদের সাথে মিলে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেন।
জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রধান প্রস্তাবকগণ:
- মার্শাল টিটো (যুগোস্লাভিয়া)
- জওহরলাল নেহেরু (ভারত)
- গামাল আবদেল নাসের (মিশর)
- সুকর্ণ (ইন্দোনেশিয়া)
- কোয়ামে এনক্রুমা (ঘানা)
🔹 অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
লেনিন (A) – ভ্লাদিমির লেনিন ছিলেন রুশ বিপ্লবের নেতা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯১৭ সালে অক্টোবর বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন এবং পিস ডিক্রি (শান্তি ডিক্রি) ও ভূমি ডিক্রি জারি করেন। জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন শুরু হয় লেনিনের মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর, ১৯৬১ সালে। তাই লেনিন এর সাথে জড়িত নন।
রবার্ট শ্যুম্যান (C) – রবার্ট শ্যুম্যান ছিলেন একজন ফরাসি রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক। তিনি ১৯৫০ সালে শ্যুম্যান প্ল্যান (Schuman Plan) পেশ করেন, যা ইউরোপীয় কয়লা ও ইস্পাত সম্প্রদায় (ECSC) গঠনের ভিত্তি ছিল। এটি পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সূচনা করে। তার সম্পৃক্ততা ইউরোপীয় একীকরণে, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনে নয়।
রুজভেল্ট (D) – ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩২তম রাষ্ট্রপতি। তিনি নিউ ডিল নীতির প্রস্তাবক এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেন। রুজভেল্ট জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের সাথে জড়িত নন।
🔹 জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন – ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
- প্রথম সম্মেলন: ১৯৬১ সালের ১-৬ সেপ্টেম্বর
- স্থান: বেলগ্রেড, যুগোস্লাভিয়া (বর্তমান সার্বিয়া)
- প্রথম সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশ: ২৫টি
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ১২০টি দেশ
- প্রধান নীতি: সামরিক জোটে না যোগ দেওয়া, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, ঔপনিবেশিকতার বিরোধিতা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি
🔹 কেন গুরুত্বপূর্ণ
জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যেখানে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা সোভিয়েত ইউনিয়নের কোনো পক্ষে না গিয়ে নিজেদের স্বাধীন কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে পারে। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এই জোটের সদস্যপদ লাভ করে এবং বর্তমানে এতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
🔹 পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রধান প্রস্তাবকগণ: মার্শাল টিটো, জওহরলাল নেহেরু, নাসের, সুকর্ণ, এনক্রুমা
- প্রথম সম্মেলন: ১৯৬১, বেলগ্রেড
- বাংলাদেশের সদস্যপদ: ১৯৭৩ সালে
- বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার NAM সম্মেলনের আয়োজক: ১৯৮৫, ঢাকা (তথ্য ভুল হতে পারে)
- মার্শাল টিটো: যুগোস্লাভিয়ার নেতা, NAM-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা
- নেহেরু: ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, পঞ্চশীল নীতির প্রবক্তা
- নাসের: মিশরের রাষ্ট্রপতি, সুয়েজ খাল জাতীয়করণের নায়ক
আশা করি এই ব্যাখ্যা থেকে 'জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রস্তাবক' সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। নিয়মিত অনুশীলনের জন্য আমাদের লাইভ এক্সাম পেজ ভিজিট করুন।